বিএমইউতে সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিকগাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনা মাস উদ্বোধন

বিএমইউতে সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিকগাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনা মাস উদ্বোধন

গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের ছোট ছোট উপসর্গকেও অবহেলা নয়: বিএমইউ উপাচার্য

মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর ও বিএমইউ এর উদ্যোগে ওভারিয়ান ক্যানসার বিষয়ক সিএমই ও স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) এর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখে ‘ক্যান্সার নিয়ে নীরব নয়, সচেতন হই। লজ্জা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই হোক আমাদের শক্তি’ এই স্লোগান নিয়ে ইন্টারন্যাশাল গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার এ্যাওয়ারনেস মানথ (International Gynecological Cancer Awareness Month) উদ্বোধন করা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিলন হলে বিএমইউ এর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগ ও ভারতের মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর উদ্যোগে এবং এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সহায়তায় ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই এবং স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসকল আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমইউর সম্মানিত উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকের সামনে থেকে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুভ উদ্বোধন করেন উপাচার্য মহোদয়। এসময় অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, আন্তর্জাতিক গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার সচেতনা মাস এবং ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ যে, এর মাধ্যমে জনসচেতনা বৃদ্ধি পাবে। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নাই। গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সার হতে পারে এরকম ছোট ছোট উপসর্গকেও অবহেলা নয়। যদি একটু আগেই গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গ সমূহ চিহ্নিত করা যায় তবে এই ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব। প্রতি বছর বিশ্বে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারে ১৪ লক্ষ নারী আক্রান্ত হয় এবং বাংলাদেশে আক্রান্ত হয় ৮০ হাজার। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে লজ্জা ভয়কে জয় করে গাইনোকোলজিক্যাল ক্যান্সারের উপসর্গ সমূহকে অবহেলা না করে সময় মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।

র‌্যালিতে বিএমইউ এর সম্মানিত সম্মানিত উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ডা. মোঃ নজরুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোঃ মোস্তফা কামাল, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোঃ ইব্রাহীম সিদ্দিক, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. শেখ ফরহাদ, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যাপক ডা. ফওজিয়া হোসেন, অধ্যাপক ডা. আশরাফুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. শিরিন আক্তার বেগম, সম্মানিত উপাচার্য মহোদয়ের একান্ত সচিব-১ অধ্যাপকা ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ আলমগীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে শহীদ ডা. মিল্টন হলে গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস এর সভাপতিত্বে ‘ওভারিয়ান ক্যান্সার: বিয়ন্ড সার্জারি’ শীর্ষক একটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও সিএমই প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের পরিচয় করিয়ে দেন অধ্যাপক ডা. লতিফা আক্তার। বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে ‘সার্জারি ইন ওভারিয়ান ক্যান্সার: ফ্রোম আরলি স্টেইজ ম্যানেজম্যান্ট টু সাইটু রিডাকশন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএমইউর সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা শারমিন বিথি এবং ভারতের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর ডিরেক্টর ও হেড (গাইনোকোলজি) ডা. প্রীতিলতা চৌধুরী ‘বিয়ন্ড সাইকো রিডাকশন: ইভলভিং সার্জিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ অফ ওভারিয়ান ক্যান্সার-এইচআইপিইসি, পিআইপিএসি’ শীর্ষক প্রবন্ধ ও এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ও চেয়ারম্যান (অনকোলজি সার্ভিসেস) ডা. পুনীত গুপ্ত ‘আর উই রেডি ফর দা নেক্সট স্টেপ ইন বাংলাদেশ?’ শীর্ষক তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মনোয়ারা বেগম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা খাতুন ও ডা. মেহের নিগার মুনমুন। অনুষ্ঠানে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউরের পরিচালক ডা. মাসকুর আহমেদ উসমানী উন্নত ক্যানসার চিকিৎসা ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে তাদের চলমান উদ্যোগ তুলে ধরেন।

এদিকে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-ওলকিউর, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)া এবং ভারতের ফরিদাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের যৌথ উদ্যোগে “ওভারিয়ান ক্যানসার বিয়ন্ড সার্জারি” শীর্ষক কন্টিনিউয়িং মেডিকেল এডুকেশন (সিএমই) প্রোগ্রামটিও সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসা শিক্ষা, ক্লিনিক্যাল সহযোগিতা এবং রোগী পরিচর্যা এগিয়ে নেওয়া। এই সিএমই আয়োজনটি মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর এবং বিএমইউ-এর মধ্যকার তিন বছর মেয়াদী সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশ। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের ২০০টিরও বেশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুর ভারতে বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একাডেমিক প্রোগ্রামের পাশাপাশি আজকে আয়োজিত ক্যানসার স্ক্রিনিং ও পরামর্শ ক্যাম্পে ৭০ জন নারী সেবা গ্রহণ করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেডিস্থান হেলথকেয়ার-অলকিউর তাদের আন্তর্জাতিক টেলিকনসালটেশন প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেয়, যার মাধ্যমে রোগীরা বিদেশে যাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দ্বিতীয় মতামত নিতে পারেন।

বিএমইউ এর গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সেপ্টেম্বর মাস বিশ্বব্যাপী হিসেবে পালিত হয়। এই মাসের মূল উদ্দেশ্য হলো নারীদের বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতন করা এবং রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা। জরায়ুমুখ, জরায়ু, ডিম্বাশয়, যোনি ও ভালভার ক্যান্সার নারীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অনেক সময় নারীরা শরীরে পরিবর্তন লক্ষ্য করলেও লজ্জা, ভয় বা অবহেলার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করেন। ফলে রোগটি পরে ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে যায়। অস্বাভাবিক রক্তপাত, মাসিকের ধরনে পরিবর্তন, মেনোপজের পর রক্তপাত, অস্বাভাবিক স্রাব, দীর্ঘদিনের তলপেট ব্যথা, পেট ফুলে থাকা বা অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে মেনোপজের পর যেকোনো রক্তপাত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্য বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব জরায়ুমুখের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হলো এইচপিভি ভাইরাস। এইচপিভি টিকা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এই ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। তাই নারীদের নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী নিয়মিত স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ। লজ্জা নয়, সচেতনতা নারীর শরীর নিয়ে কথা বলতে আমাদের সমাজে এখনও অনেক সংকোচ রয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবেÑশরীরের কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলা লজ্জার বিষয় নয়। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক ক্যান্সার সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। তাই নিজের বা কাছের কোনো নারীর শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই সচেতনতা মাসে আমাদের সবার কাছে আহ্বানÑনিজের শরীরকে জানুন। লক্ষণকে অবহেলা করবেন না। নিয়মিত স্ক্রিনিং করুন। এইচপিভি টিকা সম্পর্কে জানুন। প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসা নিন। একটি সচেতন পরিবার একজন নারীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সম্পাদনা: অধ্যাপক ডা. মোঃ সাইফুল আজম রঞ্জু। ছবি: মোঃ আরিফ খান । নিউজ: প্রশান্ত মজুমদার।

Share This :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Cardio-metabolic Asia Summit 2026, held in Manila, Philippines, on 20–21 June 2026, brought together 240 physicians and healthcare professionals, 22 internationally acclaimed faculty members, and delegates from 13 countries under the theme “Trends and Transformations in Cardio-metabolic Conditions.” the summit served as a premier platform for sharing the latest advances in diabetes, hypertension, dyslipidaemia, cardiovascular disease, digital health, patient engagement, and integrated cardio-metabolic care. Through high-level scientific sessions, case-based discussions, and multidisciplinary collaboration, the meeting reinforced a unified vision for improving patient outcomes through innovation, evidence-based practice, and enhanced treatment adherence.
Representing Bangladesh on this distinguished international stage, Prof. F M Siddiqui, Vice Chancellor of Bangladesh Medical University and one of the country’s most respected physicians in Internal Medicine, participated as an invited international faculty member. His selection as Chairperson of the session “Navigating Complex Cardio-metabolic Cases” reflected both his longstanding academic leadership and the growing recognition of Bangladesh’s contribution to contemporary internal medicine.
During the session, internationally recognized experts from Thailand and Vietnam presented challenging real-world clinical cases focusing on the simplification of diabetes management, synergistic therapeutic strategies, and the critical issue of treatment non-adherence. Under Prof. Siddiqui’s leadership, the discussions translated complex clinical scenarios into practical, patient-centred strategies that clinicians could readily apply in routine practice. His thoughtful moderation ensured a dynamic exchange of perspectives and enriched the scientific dialogue among participants from across the region.
International scientific congresses of this calibre play a pivotal role in fostering collaboration, promoting the exchange of knowledge, and accelerating the adoption of best clinical practices across borders. Prof. Siddiqui’s active contribution not only enhanced the academic quality of the meeting but also highlighted Bangladesh’s growing presence within the global medical community. His participation stands as a reflection of the country’s commitment to excellence in medical education, clinical practice, and international scientific engagement.